হার্ট অ্যাটাক কি?

হার্ট অ্যাটাক হয় যখন হৃৎপিণ্ডের পেশীর একটি অংশে রক্ত ​​​​প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে হৃৎপিণ্ডের সেই অংশের ক্ষতি বা মৃত্যু ঘটে। এই বাধা সাধারণত করোনারি ধমনীতে ফ্যাটি জমা (প্ল্যাক) জমা হওয়ার কারণে হয়, যা হৃৎপিণ্ডে রক্ত ​​সরবরাহ করে।

হার্ট অ্যাটাক কীভাবে হয়?

হার্ট অ্যাটাক হয় যখন হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী ধমনীতে (করোনারি ধমনী) রক্তপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায় বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে হৃৎপেশিতে অক্সিজেন পৌঁছায় না এবং পেশীর ক্ষতি হয়। এটি সাধারণত ধমনীতে চর্বি, কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য পদার্থের জমাট (প্লাক) জমে সরু হয়ে যাওয়ার কারণে ঘটে; যদি এই প্লাক ফেটে যায় তবে রক্ত জমাট বেঁধে পুরোপুরি blockage তৈরি করতে পারে।  

হার্ট অ্যাটাক যেভাবে হয় (ধাপে ধাপে):

  1. করোনারি ধমনীতে প্লাক জমা: সময়ের সাথে সাথে, করোনারি ধমনীর ভেতরের দেয়ালে চর্বি, কোলেস্টেরল, ক্যালসিয়াম এবং অন্যান্য পদার্থ জমা হয়ে ‘প্লাক’ তৈরি করে। একে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস (Atherosclerosis) বলে। 
  2. ধমনী সরু হওয়া: এই প্লাক জমার ফলে ধমনী সরু হয়ে যায়, যা হৃৎপিণ্ডে রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ কমিয়ে দেয়। 
  3. প্লাক ফেটে যাওয়া: কোনো কারণে এই প্লাক ফেটে গেলে, তার ওপর রক্ত জমাট বেঁধে একটি বড় ক্লট (রক্তপিণ্ড) তৈরি করে। 
  4. রক্তপ্রবাহ বন্ধ: এই জমাট বাঁধা রক্ত ক্লটটি ধমনীকে পুরোপুরি ব্লক করে দেয়, ফলে হৃৎপিণ্ডের সেই অংশে রক্ত পৌঁছাতে পারে না। 
  5. অক্সিজেনের অভাব ও পেশীর ক্ষতি: রক্ত না পৌঁছানোর কারণে হৃৎপেশী অক্সিজেনের অভাবে ভুগতে শুরু করে এবং পেশীর টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত বা মারা যেতে শুরু করে। 
  6. হার্ট অ্যাটাক: এই পরিস্থিতিই হার্ট অ্যাটাক বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (Myocardial Infarction) নামে পরিচিত, যা হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা ব্যাহত করে। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top